আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার। ওই দাবিতে বলা হচ্ছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গণভোট ঘিরে ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে— যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরকারের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ফটোকার্ড ব্যবহার করে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ মূলত বলেছেন— নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনে আলাদা দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে এতে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচনের পর থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে— সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়নসহ সব নিয়মিত কাজ চলবে।
সরকার জানায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি হলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই আদেশ অনুযায়ী, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং সংসদ কেবল স্বাভাবিক আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করবে।
সরকার আরও জানায়, কোথাও বলা নেই যে এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকবে বা সরকারের মেয়াদ বাড়ানো হবে। বরং এটি কেবল নির্বাচিত সংসদের সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত দায়িত্বের বিষয়।
সবশেষে সরকার জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রচলিত কোনো আদেশ বা আইনে কোনো ইঙ্গিত নেই।
Ekhoni News