মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সোমবার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের পর এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার ও প্রতিশোধের সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে জুলাই সনদ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সরকার সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবায়নের ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি বলে মন্তব্য করেন।
এদিন প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের কর্মকাণ্ডে মব সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। সংস্থাটির মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও দৃশ্যমান নয়। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংস ঘটনায় ১০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ রয়েছে। একই সময়ে ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অন্য মামলায় জড়ানোর অভিযোগও উঠে এসেছে।
টিআইবির মূল্যায়নে বলা হয়, অর্থ ও পেশিশক্তি নির্ভর রাজনীতি এবং ধর্মভিত্তিক প্রভাবের কারণে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
Ekhoni News