নাগরিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির স্থান থাকবে না এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে কোনো ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আটকে না থাকে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) আয়োজিত এক বৈঠকে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নাগরিককে কোনো ব্যক্তির কাছে বা অফিসে যেতে না হয়—বরং সরকারি সেবা নিজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু অবকাঠামো থাকলেই হবে না; দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু পুরোনো হয়ে গেছে এবং তার বাস্তব ফল দেখা যাচ্ছে না। তাই প্রযুক্তিনির্ভর, ফলাফলভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু করতে হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ভালো ফল অর্জনকারীদের উৎসাহ দিতে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানমুখী প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে যে বিষয়ে দক্ষ, সেই দক্ষতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও র্যাংকিং চালুর প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মান উন্নয়ন হয়। বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কমিটির সদস্যরা বৈঠকে জানান, বাংলাদেশে এ ধরনের মূল্যায়ন উদ্যোগ এই প্রথম হওয়ায় মানদণ্ড নির্ধারণ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিভিন্ন দেশের সফল অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একাডেমিক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতিনির্ধারণের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করেছে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে মানোন্নয়নের সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনায় এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা এবং এনএপিডি—প্রাথমিকভাবে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Ekhoni News