আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহার ঘোষণার সূচনা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ইশতেহার কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি বিভাজনের নয়, জাতীয় ঐক্যের বার্তা বহন করে।
দলটির ঘোষিত ইশতেহার জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ৪১টি ভিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২৬টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অংশে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন, কার্যকর সংসদ ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র, পাট, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
ইশতেহারে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুব নেতৃত্বের রূপরেখাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
Ekhoni News