নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি বা বাহিনীর সদস্য দলীয় স্বার্থে কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সরকার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল ও নৌপথে নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ মৎস্য আহরণ দমন, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং জলদস্যুতা মোকাবিলায় বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান উদ্ধার এবং দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও তাদের অবদান প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির কাজের প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের অন্যতম বড় শত্রু আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে দেয়। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।