আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেড় লাখের বেশি প্রশিক্ষিত সদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে দ্রুত শক্ত হাতে তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা বেড়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রায় ৫০টি আসনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজনের প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ শাখা ইতোমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকা তৈরি করেছে। পাবনা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ ১০ জেলার ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
মিডিয়া এআইজি এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে বডি ক্যামেরা। কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড হবে এবং স্ট্রাইক ও ব্যাকআপ টিম দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উস্কানিমূলক পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট।