অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে যে দুটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত খসড়া দুটি জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং এসব খসড়ার মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সম্প্রচার খাতকে আরও কঠোরভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার অপচেষ্টা স্পষ্ট।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত কমিশনগুলোর গঠন, কমিশনারদের মর্যাদা, প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো—সব ক্ষেত্রেই সরকারি কর্তৃত্ব, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এতে স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় চাপ, সহিংসতা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রোধে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব কর্মকাণ্ডে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
টিআইবি দুটি আলাদা নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা গঠনের পরিবর্তে সরকারি প্রভাবমুক্ত একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে পরিণত না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।