যাকাত প্রদান ইসলামের একটি মৌলিক ফরজ বিধান হলেও বাংলাদেশের বহু মানুষ তা যথাযথভাবে আদায় করছেন না—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে যাকাত অস্বীকার বা পরিত্যাগ করা বিশ্বাসের দুর্বলতার প্রকাশ। যারা সচেতনভাবে যাকাত প্রদান করেন না, তারা ইসলামের মৌলিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে রাষ্ট্রীয় যাকাত বোর্ড থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে যাকাত সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ করা হয়, যার ৮০ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে এবং ২০ শতাংশ কেন্দ্রীয়ভাবে বিতরণ করা হয়। তবে তুলনামূলকভাবে বেসরকারি উদ্যোগ সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিত্তবান ব্যক্তি সঠিক হিসাব অনুযায়ী যাকাত না দিয়ে ইচ্ছামতো একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দান করেন, যা যাকাতের শরয়ি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যাকাত পরিত্যাগের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে আমাদের সমাজে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, দারিদ্র্যই অনেক নারীকে অনাকাঙ্ক্ষিত পেশার দিকে ঠেলে দেয়। যথাযথ যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে তারা সম্মানজনক জীবনে ফিরতে পারবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচনে এটি একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হবে।