চাঁদাবাজিকে সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর আখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট কাজ। এই অনৈতিক পেশা থেকে সরে না এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে চাঁদাবাজি এখন একটি নতুন পেশায় পরিণত হয়েছে, যা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য ভয়ংকর হুমকি। তিনি চাঁদাবাজদের এই পথ পরিহার করে হালাল উপার্জনের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জানান, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের বৈধ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেবে। তবে এই কাজ বন্ধ না করলে তাদের ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, যুবসমাজ ইতোমধ্যেই পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তরুণরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও ফ্যাসিবাদহীন বাংলাদেশ চায়।
কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কওমি মাদরাসাগুলো অবহেলার শিকার। ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে যথাযথ মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে।
নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এসে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ হলে মেয়র ও কাউন্সিলরদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পক্ষে ভোট চেয়ে জনগণের সমর্থন কামনা করেন জামায়াত আমির।